প্রাকৃতিক চিকিৎসার অর্থ হল
প্রকৃতির নিয়মগুলিকে সঠিক ভাবে পালন করা এবং প্রকৃতি যে পঞ্চভূতের সাহায্যে তৈরি তাকেই কাজে লাগিয়ে
শরীরের বিভিন্ন রোগকে সারিয়ে তুলা। অর্থাৎ প্রাকৃতিক চিকিতসায় মাটি, জল, সূর্য,
বায়ু ও শব্দকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থগুলি বার করে শরীর
শুদ্ধ হয়ে উঠে ও জীবনশক্তি প্রবাহ শক্তিশালী হয়। এতে শরীর তার নিজের রোগ নিজেই নিরাময় করতে পারে এবং
ভালোভাবে কাজ করে যেতে পারে। প্রচলিত বিভিন্ন প্রকারের প্রাকৃতিক চিকিৎসা থাকলেও তাদের মূল উদ্দেশ্য বা পদ্ধতি প্রায় একই থাকে। যার যার নিজের বিশ্বাস ও সুবিধামতো প্রত্যেকেই এক কিংবা
একাধিক পদ্ধতি মেনে চলতে পারলেই যথেষ্ট। যা প্রয়োজন সেটা হল এই চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাস রাখা।
সুস্থ মানব জীবন গড়ে তুলতে গেলে কেবলমাত্র একটি নীতি মেনে চলাই যথেষ্ট, আর তা হলো - ' ন চ বিদ্যা সম বন্ধু, ন চ ব্যাধি সম রিপু ' অর্থাৎ বিদ্যার থেকে বড়ো কোন বন্ধু নাই আর রোগের থেকে বড়ো কোন শত্রু নাই। তাই সর্বদা নিজের বিদ্যা- জ্ঞানকে বাড়িয়ে যেতে হবে। যতদিন বাঁচবে ততদিন কিছুনা কিছু শিখতে হবে। জ্ঞান অসীম কিন্তু জীবন খুব সংক্ষিপ্ত। জ্ঞানীর কাছে সংসার আনন্দময় আর অজ্ঞানীর কাছে তা দুঃখময়। সংসারের পথে হুলও আছে আবার ফুলও আছে। জ্ঞানের পথে যারা পথিক তারা এই হুলের খোঁচা খায় না, ফুলই কুড়ায়। তাই গীতাই বারে বারে এই জ্ঞানযোগেরই কথা বলা হয়েছে। ' জ্ঞানের মত পবিত্র জিনিস এ জগতে আর কিছু নাই ' ৩৮/৪। জ্ঞানেই শান্তি জ্ঞানেই মুক্তি। আর শরীর হলো সবচেয়ে বড়ো সম্পদ। এর থেকে মূল্যবান এই জগতে আর কিছু নাই। কারণ ৮৪ লক্ষ জন্মের ফলস্বরূপ হল আমাদের এই শরীর। এটাই আমাদের আসল মন্দির আসল তীর্থস্থান। তাই প্রতিদিন একেই পূজা করতে হবে, একেই সবার প্রথমে সেবা যত্ন করতে হবে। বলা হয় A sound mind in a sound body - একটা সুস্থ শরীরেই একটা সুস্থ মন থাকে। এই সুস্থ মনেই থাকে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, উৎসাহ, সাফল্য, ব্যার্থতা সমস্ত কিছু। একটি সুস্থ শরীর, একটি সুস্থ মন, একটি সুস্থ জীবন নিয়েই একটি সুন্দর শান্তিময় সমাজ গড়ে উঠতে পারে। কথাই আছে শান্তি পেতে গেলে প্রথমে শান্ত হতে হয় আর মুক্তি পেতে গেলে মুক্ত হতে হয়।
